বান্দরবান কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির একটি ভবনে ভাড়ায় বসবাস করা থেকে শুরু—২০১৭ সালে জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যেন ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় মোজাম্মেল হক বাহাদুরের। মাত্র সাত বছরে তিনি শতকোটিরও বেশি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গাড়ি-বাড়ি থেকে শুরু করে শত একর জমির মালিকানাও গড়ে তুলেছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, বাহাদুর ও তার ভাইয়েরা মিলে টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। জেলা পরিষদ সদস্য হওয়ার পর স্বল্প সময়ে তার সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে ছিল তাদের গ্রামের বাড়ি। বাবার দরজির কাজের সূত্রে বান্দরবানে আসেন তারা। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে ঠিকাদারি পেশায় যুক্ত হলেও তেমন সফলতা পাননি। তবে জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার আর্থিক অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।
সূত্র মতে, কোটি টাকার জমি কিনে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি একটি ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে ভবনের ষষ্ঠ তলার কোনো অনুমোদন নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বান্দরবান সদর ইউনিয়নের টঙ্কাবতী সড়ক এলাকায় প্রতি একর প্রায় ২০ লাখ টাকা দরে নিজের ও ভাইদের নামে প্রায় ৩০০ একর জমি কিনেছেন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
চট্টগ্রামের ওয়াসার মোড়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোর কিনে ‘বাহাদুর টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিক্স’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এছাড়া মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের শেয়ার কিনে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হওয়ার কথাও জানা গেছে।
জমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাঙামাটি তথ্য অফিসের কর্মচারী জামাল উদ্দিন জানান, বান্দরবান পৌর শহরে ব্রিটিশ আমল থেকে তাদের দখলীয় পৈতৃক সম্পত্তিও বাহাদুর দখল করে নিয়েছেন। পরে সেই জমি তার আত্মীয়দের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, জেলা পরিষদ সদস্য হওয়ার পর বাহাদুর তার গ্রামের বাড়ি থেকে আত্মীয়স্বজনদের বান্দরবানে নিয়ে আসেন এবং তার প্রভাব খাটিয়ে তাদেরও আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর বলেন, “৬ তলা ভবনটি আমার, আর ‘বাহাদুর টেইলার্স’-এ আমি সহ চারজনের শেয়ার রয়েছে।” অল্প সময়ে শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে ফোন কেটে দেন।
