৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে কুপিয়ে খুন: যাবজ্জীবন কারাবাস মা ও ছেলের
সংসার চালাতে গিয়ে লাগাতার ধার, আর সেই ধার শোধ করার অজুহাতে বারংবার টাকা আনতে হত স্ত্রীকে। টাকা দিতে না পারলেই চলত মারধর আর মানসিক অত্যাচার। নিত্যদিনের এই যন্ত্রণা সঙ্গী ছিল পাণ্ডুয়া থানার তাঁবা এলাকার এক সুকান্ত বণিকের দফায় দফায় টাকা আনার দাবি, শাশুড়ি রেণুকা বণিকের নিয়মিত মানসিক অত্যাচার, আবার অন্যদিকে নিজে তখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন ওই গৃহবধূ।
অশান্তি বাড়তে বাড়তে চরমে পৌঁছয় ৬ ডিসেম্বর। কথাকাটাকাটি, ঝামেলা আর মারধরের সীমানা ছাড়িয়ে স্বামী সুকান্ত ধারালো কাস্তে নিয়ে তেড়ে আসেন স্ত্রীর দিকে। পাশে দাঁড়িয়ে তাকে ইন্ধন জোগায় শাশুড়ি রেণুকা। অপরাধ? বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে বিরতি চাওয়া! একের পর এক কোপ বসতে থাকে গৃহবধূর গায়ে, মাথায়, গলায়! মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সেই ভাবী মা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু।
২০১৮ সালের এই নৃশংস খুনের ঘটনায় তদন্ত করেছিলেন পাণ্ডুয়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর সোমদেব পাত্র। তাঁর তদন্তে গ্রেফতার হয় সুকান্ত ও রেণুকা বণিক, জমা পড়ে চার্জশীট।
শেষ হয়েছে বিচারপর্ব। সুকান্ত ও রেণুকার জন্য ১০,০০০/- টাকা জরিমানাসহ যাবজ্জীবন সশ্রম কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
@HglyRuralPolice
