শ্বাসরোধ করে খুন গৃহবধূকে: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড শ্বশুরবাড়ির চার সদস্যের
গোপালনগর থানার কামদেবপুর গ্রামের কর্মকারপাড়ার বাসিন্দা তারক কর্মকার বিয়ে করেন এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে পিংকি কর্মকারকে। বিয়েতে যথাসাধ্য পণ দিয়ে মেয়েকে বিদায় দেন বাবা বিমল কর্মকার। তবুও সংসার পিংকির ওপর শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওর—প্রত্যেকের দাবি ছিল, বাপের বাড়ি থেকে এনে দিতে হবে আরও অনেক টাকা। আর সেই দাবি পূরণ না হলেই চলত মারধর, অত্যাচার ও অশান্তি।
প্রায় প্রতিদিনের এই অশান্তি বাড়তে বাড়তে চরমে পৌঁছায় ১৫ মে, ২০১৭ সালে। ঝামেলা চলাকালীন পিংকির মুখে সর্বশক্তি দিয়ে বালিশ চেপে ধরে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। ছটফট করতে থাকেন পিংকি। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে তাঁর শরীর। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে পিংকির বাবাকে ফোন করা হলে, এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তিনি ছুটে যান হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে দেখেন, তাঁর মেয়ে আর বেঁচে নেই।
মেয়ের এই নৃশংস মৃত্যুর বিচার চেয়ে বিমলবাবু গোপালনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর নন্দদুলাল দেবনাথ চার অভিযুক্ত—তারক কর্মকার, জয়দেব কর্মকার, সাবিত্রী কর্মকার ও সমীর কর্মকারকে গ্রেফতার করেন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত রায়ে মহামান্য আদালত চার অভিযুক্তকেই ১০,০০০ টাকা জরিমানাসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
@SP_Bongaon_PD
